অসমাপ্ত স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরা: ওসমান হাদির লাল-সবুজের কফিন

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

মোঃ আল আমিন

দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।

শরিফ ওসমান হাদি। জনপ্রতিনিধি হয়ে অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ছিল তার। কিন্তু একটি বুলেটেই থেমে যায় সেই পথচলা। দেশি ও বিদেশি হাসপাতালে টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে অবশেষে নিথর দেহে দেশে ফিরছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি। লাল-সবুজে মোড়া তার কফিন যেন বহন করছে অসমাপ্ত কিছু স্বপ্ন ও প্রতিশ্রুতি। তবে তিনি রেখে গেছেন সাহস, প্রতিবাদ আর বিদ্রোহের অনন্য দৃষ্টান্ত।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কফিনবন্দি মরদেহের ছবি সংবলিত একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে লেখা হয়, ‘হারাম খাইয়া আমি এত মোটাতাজা হই নাই, যাতে আমার স্পেশাল কফিন লাগবে! খুবই সাধারণ একটা কফিনে হালাল রক্তের হাসিমুখে আমি আমার আল্লাহর কাছে হাজির হবো।’ গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগেই এমন মন্তব্য করেছিলেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ওসমান হাদি।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা ওসমান হাদির মরদেহ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে লাশবাহী ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে অবতরণের কথা রয়েছে। শনিবার জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন ওসমান হাদি। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ