নিউজ ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।
আবারো বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে কলিং ভিসার কোটা উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া। কলিং ভিসায় দেশটি সাড়ে ২৪ লাখের ৬৭ হাজার কর্মী নেবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এক ঘোষণায় এ কথা জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল। মালয়েশিয়ার প্রধান প্রধান কয়েকটি গণমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করে নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ চার বছরের নিষেধাজ্ঞার পর ২০২২ সালের ৯ আগস্ট মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলেও এর সাত মাস পর ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ দেশটির তৎকালীন মানবসম্পদমন্ত্রী ভি শিবকুমার এক বিবৃতিতে জানান, বিদেশি কর্মীদের জন্য কোটার আবেদন ও অনুমোদন পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। তৎকালীন সময় কারণ হিসেবে দেখানো হয় শ্রমিক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও সিন্ডিকেটদের অসামঞ্জস্য অর্থ লেনদেন এবং এজেন্টদের অনিয়ম।
প্রায় দুই বছর পর আজ মঙ্গলবার বিদেশি কর্মী নিয়োগ বিষয়ে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি যৌথ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কলিং ভিসার কোটা উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল জানান, কৃষি, বাগান ও খনি খাতসহ মোট ১৩টি উপখাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন গ্রহণ করা হবে।
এর মধ্যে সার্ভিস সেক্টরের হোলসেল অ্যান্ড রিটেল, ল্যান্ড ওয়্যার হাউস, সিকিউরিটি গার্ডস, মেটাল অ্যান্ড স্ক্রাপ ম্যাটেরিয়ালস, রেস্তোরাঁ, লন্ড্রি, কার্গো এবং বিল্ডিং ক্লিনিং খাতে শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ থাকছে।
তিনি আরও বলেন, নির্মাণ খাত অর্থাৎ কনস্ট্রাকশন সেক্টরে নিয়োগ কেবল সরকারি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকবে, আর উৎপাদন (ম্যানুফ্যাক্টর) খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমআইডিএ) এর আওতাধীন নতুন বিনিয়োগকে।
এবারের কলিং ভিসা/বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদনের সুযোগ শুধু খাতভিত্তিক অফিসিয়াল এজেন্সিগুলো পাবে। আগের মতো কোনো এজেন্ট বা সরাসরি নিয়োগকর্তা স্বাধীনভাবে আবেদন করতে পারবে না। আবেদন যাচাইবাছাই শেষে তা অনুমোদন করবে ফরেন ওয়ার্কার্স টেকনিকাল কমিটি এবং পরে জয়েন্ট (যৌথ) কমিটি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এখন ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন শ্রমিকের কোটা চালু আছে, যা বছর শেষ (৩১ ডিসেম্বর-২০২৫) পর্যন্ত বহাল থাকবে।
এরপর বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ সীমিত করে কেবল দেশের মোট জন শক্তির ১০% পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হবে।
সকল সেক্টরে মালয়েশিয়া নিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর সর্বদা প্রথম পছন্দ বাংলাদেশী শ্রমিক। প্রতিবারই বাংলাদেশী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এর কবলে পরিশ্রমিক প্রেরণ বিলম্ব হয়। সময়মতো চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিক প্রেরণ করা হয়না। সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে শ্রমিকেরা ব্যাপক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গমন করে। এসব সিন্ডিকেট এবং অনিয়মের কারণে সময় বিলম্ব হয় বলে সেখানকার নামিদামি কোম্পানিগুলো দিন দিন বাংলাদেশী শ্রমিক নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। প্রতিবারই এই সুযোগ লোফে নেয় নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম সহ কয়েকটি দেশ। এবার মালয়েশিয়া ব্যাপক পরিসরে কলিং ভিসায় কোটাভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছে। এইবারও যদি সিন্ডিকেটের দৌড়াতে শ্রমিক প্রেরণের প্রক্রিয়া বিলম্ব হয় তাহলে বাংলাদেশী শ্রমিকেরা ব্যাপক হারে ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলোতে চাকুরীর সম্ভাবনা হারাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির বাস্তবায়নে জন্য শুরু থেকেই সিন্ডিকেট দের কার্সাজির বিরুদ্ধে সরকারের শক্ত অবস্থান থাকতে হবে। শ্রমিক প্রেরণে পক্রিয়া ও কার্যক্রম শৃঙ্খলাতার সাথে সফলভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বিগত দিনে যারা এই খাতে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ও নজরদারি রাখতে হবে। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সফলভাবে কাঙ্খিত এই শ্রমবাজারের শ্রমিক প্রেরণ করা সম্ভব।।







