কালীগঞ্জে আড়াই বছরের শিশুকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত কিশোরী পুলিশ হেফাজতে

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

মোঃ ইব্রাহিম খন্দকার
কালিগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত ক্ষোভে ভাড়াটিয়ার আড়াই বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে।
শনিবার বিকেলে পৌরসভার দেওপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে।
এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার দুপুরে শিশু হত্যায় অভিযুক্ত কিশোরীকে
১৪৪ ধারা জবানবন্দী সহ গাজীপুর জেলা শিশু কিশোর অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালতের হাজির করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে রোববার সকালে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত শিশু আরিশা আক্তার জান্নাত
রাজবাড়ী জেলার রামকান্তপুর এলাকায়। নিহত শিশুর বাবা আলহাজ শেখ মাতা গোলাপি বেগম। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে তিনি
কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকায় আবুল কালামের বাড়িতে ভাড়ায় থেকে সেভেন রিংস সিমেন্ট কারখানায় কর্মরত রয়েছেন।
অভিযুক্ত কিশোরী বাড়ির মালিক আবুল কালামের মেয়ে ইসরাত জাহান মিম (১৪)। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও নিহত শিশুর বাবার কাছথেকে জানা গেছে, এই দুই পরিবারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। মিমের মা ছোট্ট আরিশাকে বিশেষভাবে পছন্দ করতেন এবং আদর করতেন। শনিবার বিকেলে বাড়ির উঠানে দুজন একসঙ্গে খেলছিল। সে সময় দুই পরিবারের লোকজন ঘরের ভেতরে কথা বলছিলেন। কিছুক্ষণ পর আরিশাকে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে গোসল খানায় বালতির পানিতে শিশুটিকে ডুবন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার বাবা-মা। পরে ডাক চিৎকার করলে বাড়ির লোকজন এসে আরিশা আক্তার জান্নাতকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিশার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া মিমকে পলিশ হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করার এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছে। মিমের মা নিহত আরিশাকে খুবই আদর করতেন — এই বিষয়টি মিম কোনো আবস্থাতেই মেনে নিতে পারেনি। এ থেকে তার মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া সে দীর্ঘদিন ধরে ‘ক্রাইম পেট্রোল’-এর মতো অপরাধ ভিত্তিক টেলিভিশন ধারাবাহিকে আসক্ত ছিল, যা তাকে এ ঘটনায় প্ররোচিত করে থাকতে পারে বলে তদন্তকারী পুলিশ ধারণা করছেন। মিম মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ নয় বলেও জানা গেছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেনসহ ও তদন্তকারী পুলিশ সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘মিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ হত্যার পেছনে আরো কোন কারণ আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই হত্যার ঘটনায় আরো তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ