নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনে চলছে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান। গতকাল (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার) প্রগতি সরণি ও যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এবং ফুটপাতে শুরু হয়েছে ব্যাপক উচ্ছেদ। ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এই কঠোর অবস্থান নিলেও উচ্ছেদের পর পর স্থানীয় প্রভাবশালী দুষ্কৃতিকারী মহল পুনরায় দখল বাণিজ্য শুরু করে। উচ্ছেদের আড়ালে বেরিয়ে আসছে পুনরায় দখল বাণিজ্যের ভয়ংকর চিত্র।
একদিকে উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে উচ্ছেদ করা জায়গায় মোটা অঙ্কের বিনিময়ে নতুন করে হকার বসানোর পাঁয়তারা করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে যমুনা ফিউচার পার্কের ‘পকেট গেট’ সংলগ্ন রাস্তার দুই পাশের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।
উচ্ছেদে তছনছ নিন্ম আয়ের মানুষের ঈদের স্বপ্নঃ
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে যারা সংসার চালান, এই অভিযানে তাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে তারা শান্তিতে ব্যবসা করে আসছিলেন। কিন্তু ঈদকে সামনে রেখে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল তোলার পরপরই শুরু হয়েছে এই উচ্ছেদ। অভিযানে ফলমূল, সবজিসহ পচনশীল কাঁচামাল রাস্তায় ফেলে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অনেক হকার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলছেন, “আমাদের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেওয়া হলো। এখন পরিবার নিয়ে ঈদ করা তো দূরের কথা, বেঁচে থাকাই দায়।”
নেপথ্যে দখল বাণিজ্য ও সংবাদকর্মীদের ওপর হামলাঃ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই উচ্ছেদ অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে একটি সুবিধাভোগী চক্র। হকারদের উচ্ছেদ করে পুনরায় নতুন করে টাকা নিয়ে অন্য হকারদের বসানোর পরিকল্পনা করছে তারা। ‘দৈনিক বাংলাদেশ ভোর’-এর রিপোর্টার মো. সাইফুল ইসলাম সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এই চক্রের বাধার মুখে পড়েন।
ভুক্তভোগী হকারদের সাথে কথা বলার সময় কিছু দুষ্কৃতিকারী সংবাদকর্মীদের ওপর তেড়ে আসে এবং ভিডিও ধারণে বাধা দেয়। এমনকি তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ক্যামেরা নিয়ে দস্তাদস্তি শুরু করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মূলত এই চক্রটিই ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করে এবং উচ্ছেদের সুযোগে নতুন করে চাঁদাবাজির পথ সুগম করে।
ভোগান্তি বনাম জীবন-জীবিকাঃ
সিটি কর্পোরেশনের দাবি, ফুটপাত দখল হওয়ার কারণে পথচারী চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। জনভোগান্তি চরমে ওঠায় এই অভিযান অপরিহার্য। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যাদের পকেট ভারী হচ্ছে সেই সিন্ডিকেট কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে? ফুটপাত দখল বাণিজ্যে জড়িতদের ভাগ্যের পরিবর্তন হলেও স্বল্প পুঁজির মানুষগুলো প্রতিবারই সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, ঈদ ও পূজার মতো বড় উৎসবগুলোর আগেই কেন এই উচ্ছেদ চালানো হয়? তাদের মতে, এটি পরিকল্পিতভাবে তাদের ব্যবসা ধ্বংস করার একটি ষড়যন্ত্র। প্রশাসনের উচিত দখলবাজ সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করা, যাতে অসহায় হকাররা কোনো মহলের দাবার ঘুঁটি না হয়।







