ডেস্ক প্রতিবেদন
দৈনিক বাংলাদেশের ভোর
দেশে যা কিছুই ঘটছে বলা হচ্ছে ‘কেষ্টা বেটাই চোর’। দেশের সব সমস্যার দায় চাপাতে, দোষ ঢাকতে কাকে সেই কেষ্টা বেটাই পরিণত করা হয়েছে তা বলার প্রয়োজন পড়ে না। এই কেষ্টা বেটার বিরুদ্ধে পতিত স্বৈরাচারের প্রোপাগাণ্ডা তো আগে থেকেই চলমান রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো- এবার ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিগুলোও মাঠে নেমেছে। এমনকি বিএনপির ঘরের ভেতরেও ষড়যন্ত্রের গন্ধ দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পুরান ঢাকায় পৈশাচিক কায়দায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংস হত্যা গোটা জাতির বিবেক নাড়িয়ে দিয়েছে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সোহাগকে পিটিয়ে এবং ইট-পাথরের টুকরা দিয়ে আঘাত করে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে শরীরের ওপর উঠে লাফায় খুনিরা। এ যেন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে লগি-বৈঠা দিয়ে জামায়াতকর্মীকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের খুনিদের পৈশাচিক নৃত্যের দৃশ্যের পুরনাবৃত্তি। ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে দলীয়ভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যুবদলের পাঁচজনকে আজীবনের জন্য সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। এরআগেও সারা দেশে বিভিন্ন ঘটনায় হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তারেক রহমানও সবসময় দলীয় শৃঙ্খলা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছেন। তবুও সোহাগ হত্যাকাণ্ডের পর একমাত্র টার্গেট বানানো হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। এই ইস্যুটিকে পুজি করে সামাজিক মাধ্যমেও তার বিরুদ্ধে রীতিমত নোংরা ক্যাম্পেইন চলছে। তার নেতৃত্ব ধ্বংস করাই যেন এর মূল টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ক্যাম্পেইনের টার্গেট কেবল তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ থাকেনি, কোনো কোনো ঘটনায় পুরো জিয়া পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে, চরম মানহানিকর কর্মকাণ্ড ও প্রচারণা চরম ভাবিয়ে তুলেছে দেশপ্রেমিক নেটিজেনদের। ফলে প্রশ্ন উঠেছে- ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপক প্রচারণায় আসলে রাজনৈতিক ফায়দা কারা পাচ্ছেন? এরআগে মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার, চাঁদপুরে ইমাম হত্যাচেষ্টা, লালমনিরহাটে থানা ঘেরাও ইস্যুতে বিএনপিকে কোণঠাসা করার ব্যাপক প্রচেষ্টা দেখা গেছে।







