মোঃ শামীম মিয়া
স্টাফ রিপোর্টার, ভালুকা, ময়মনসিংহ
দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।
ভালুকা উপজেলার ১ নং উথুরা ইউনিয়নের কৈয়াদী গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে বনবিভাগ। মোঃ লেবু মিয়ার ছেলে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা মোঃ বাদল মিয়া তার সারাজীবনের রক্ত–ঘামের সঞ্চিত অর্থে নির্মিত স্বপ্নের বাড়ি মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে বনবিভাগের লোকজন।

বাদল মিয়া প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত অর্থে ধাপে ধাপে দুই বছর ধরে গড়ে তুলেছিলেন তার নিজের আশ্রয়স্থল। কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও সেই ঘরে এক রাতও থাকার সৌভাগ্য হলো না তার। বনবিভাগের দাবি, বাড়িটি সরকারি বনের জমিতে নির্মিত। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি সত্যিই জমিটি বনবিভাগের হয়, তবে গত দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ চলার সময় বনবিভাগ কেন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি? স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি বনবিভাগের জমি নয়। সংশ্লিষ্ট জমির সিএস রেকর্ড জমিদার সমসেরন্নেছা খাতুন চৌধুরাণীর নামে এবং এসএ রেকর্ড স্থানীয় প্রজাদের নামে রয়েছে। জমিটির সিএস ও এসএ দাগ (২০৫) বর্তমানে যা নিন্ম আদালতে মামলাধীন। এ নিয়ে স্থানীয়রা বনবিভাগের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন। বাড়ি ভাঙার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন বাদল মিয়া। তার হৃদয়বিদারক আর্তনাদে আকাশ-বাতাস যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন,
“সারাজীবনের ঘাম ঝরানো উপার্জন দিয়ে একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছিলাম। আজ সব শেষ হয়ে গেল। যার যায় সেই বোঝে। আমি চাই না, আমার শত্রুরও যেন এমন অবস্থা হয়।”গ্রামের সাধারণ মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাদল মিয়া মিয়ার মতো একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার জীবনের সঞ্চয় এভাবে ভেঙে দেওয়া মানবিকতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এ উপলক্ষে আগামী ২৪ তারিখ রোজ শুক্রবার এড. শাহ্ মোহাম্মদ লিমন এবং আমিনুল ইসলামের নেতৃত্ব উথুরা ইউনিয়নের সকলকে নিয়ে উথুরা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে একটি মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।







