আল আমিন
স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।
গাজীপুর ৩ আসনের এমপি ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর সমর্থক, কর্মীর উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতিকারীরা।

গতকাল ৪ আগষ্ট ২০২৬ইং গাজীপুর ৩ আসনের এমপি সমর্থক হারুনুর অর রশিদ (৩৫) বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাতখামার বরমী আঞ্চলিক সড়কে ওঠার সময় আগে থেকে উত পেতে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

শ্রীপুরের বরমী ইউনিয়ন সোহাদিয়া গ্রামে হারুন অর হারুনুর রশিদ মো. নুরুল ইসলামের ছেলে।
এ ঘটনায় হারুন অর রশিদের মা হাসিনা খাতুন (৭০) বড় ভাই রুহুল আমিন (৪৫) ভগ্নিপতি দেলোয়ার হোসেন (৫০) সহ হতাহত হন বলে জানা গেছে।

হারুন অর রশিদ ও তার পরিবারের লোকজনের চিৎকার চেঁচামেচিতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা বেগতিক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর জয়দেবপুরে শহিদ তাজউদ্দিন উদ্দিন আহাম্মেদ হাসপাতাল / সদর হাসপাতাল প্রেরণ করেন।

বর্তমানে হারুন অর রশিদ ও তার মা হাসিনা খাতুন শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হারুন অর রশিদ পেশায় একজন কাঠ ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত।
ফ্যাসিবাদের সময় থেকে শুরু করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এ সকল ক্যাডার বাহিনী সর্বদায় তার পরিবারের লোকজনের সাথে শত্রুতা পোষণ করে আসছিল বলে জানা যায়।
হারুন অর রশিদ বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন ভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। ফ্যাসিবাদের দেয়া মিথ্যা মামলা হামলার শিকার ও হয়েছেন।
ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু গাজীপুর ৩ আসনে এমপি মনোনয়ন পাওয়ার পূর্ব থেকে তিনি সক্রিয় ভাবে বর্তমান এমপি ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর পোস্টার ব্যানার করে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন।
বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের সবসময় তার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। রাজনীতিতে স্বতঃস্ফূর্ত কর্মী হিসাবে যার নাম সকলের কাছে প্রিয়। ফ্যাসিবাদের আমলে ১১ অক্টবর ২০২৩ইং সালে বরমী ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ডের গিলাশ্বর গ্রামে এমপি ভুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়/স্কুল পুড়ানোর মিথ্যা মামলায সাবেক ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আফাস উদ্দিন প্রধান সহ ১৪ জন নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়, সেই মিথ্যা মামলায় হারুন অর রশিদ ১০ নাম্বার আসামি। যে মালুমলাটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, জামিনের রয়েছেন সকল নেতাকর্মীরা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ নৃশংস
ঘটনায় হারুন অর রশিদের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় ০৪ আগষ্ট রাতে একটি আরজি দায়ের করেছেন।
উক্ত ঘটনায় হতাহত হারুন অর রশিদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বরমী ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মাসুদ সরকার ও সচিব আখতারুজ্জামান শামীমসহ ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং হামলাকারী দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, এই সন্ত্রাসী বাহিনী এর আগেও হারুন অর রশিদকে একবার অপহরণ করে হত্যা করার চেষ্টা করে।
২৪/১০/২০২৪ইং সালে হারুন অর রশিদের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫-২০ জনের সংঘবদ্ধ এই সন্ত্রাসীরা সাদা হায়েজ গাড়িতে তাকে তুলে অপহরণ করে হত্যা করার চেষ্টা করে।
এ সময় দস্তা দস্তি করে হায়েজ গাড়িতে উঠিয়ে ফেলে, পরে তার আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী গাড়ি থেকে তাকে নামিয়ে নেওয়ার সময় আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসী গ্রুপে সদস্যরা হারুন অর রশিদকে ব্যাপক মারধর করে ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। তখন এ ঘটনায় হারুন অর রশিদের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে গাজীপুর জেলা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আদালত, গাজীপুরে ১টি সি.আর মামলা দায়ের করে।
মামলা নং-১৭৫১ /২০২৪ইং। উক্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন। এমতাবস্থায় হারুন অর রশিদের পরিবার ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছেন। যারা অপহরণ করে করে হত্যার উদ্দেশ্যে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তারাই আবার এই নিশংস হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। তারা যে কোন সময় আমাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা সহ ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে পারে।
হারুন অর রশিদের পরিবারের লোকজন স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত রুজু ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।







