১৫০ সিসির বেশি মোটরসাইকেলে লাগবে টিআইএন, থাকছে না কর

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ডেস্ক নিউজ

দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।

বাজেট ২০২৬-২৭

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বের মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। ১১ জুন উপস্থাপিত এ জাতীয় বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এবং নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম। বাজেট ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক মহল, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, অর্থনীতিবিদ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ, কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে বাজেটের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিশ্লেষণ ও প্রত্যাশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, টিআইএন বাধ্যতামূলক হলেও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় মোটরসাইকেল মালিকদের রেজিস্ট্রেশন অথবা রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করতে কোনো কর পরিশোধ করতে হবে না।

বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘১৫০ সিসি ও তদূর্ধ্ব সিসির মোটরসাইকেলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করছি। তবে মোটরসাইকেল মালিকদের রেজিস্ট্রেশন অথবা রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করতে কোনো কর পরিশোধ করতে হবে না।

বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি), প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (পিএইচইভি) ও চার্জিং অবকাঠামো আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।

পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানিতে বর্তমানে ৯৩ শতাংশ শুল্ককর রয়েছে। এটি কমিয়ে ২৫ হাজার ডলার মূল্যের গাড়ির জন্য ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার ডলার মূল্য পর্যন্ত গাড়ির শুল্ককর ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে। এতে বাজারে ইলেকট্রিক গাড়ির দাম কমতে পারে।

এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি শুল্ক-কর অব্যাহতির সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩.৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

আগামী অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের কাঠামোয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

সরকার ধীরে ধীরে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২৭.২৭ শতাংশ। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ের অংশ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট ব্যয়ের ৭২.৭৩ শতাংশ পরিচালন খাতে ব্যয় হলেও আগামী অর্থবছরে তা কমিয়ে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

 

 

 

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ