ছিনতাইকারীর নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকা, প্রশাসন নির্বাক- ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

হারুন-অর-রশিদ

স্টাফ রিপোর্টার

দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।

রাজধানী ঢাকা যেনো এক অপরাধের আতুড়ঘরে পরিনত হয়েছে। যার নিয়ন্ত্রণহীন চর্চা ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। একটি দেশের সবচেয়ে বেশি নাগরিক সুবিধা পরিলক্ষিত হয় রাজধানীতে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন রাজধানী অভিমুখী স্থানীয় ও বহিরাগত সকল মানুষ। রাজধানীর অন্যতম সমস্যাগুলোর মধ্যে ছিনতাই একটি প্রধান, ভয়াবহ ও অপ্রতিরোধ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে রাজধানীতে সর্বাধিক জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা, যানবাহন, বিভিন্ন স্থাপনাগুলো।

টঙ্গী থেকে শুরু হয়ে খিলক্ষেত, বিশ্বরোড হয়ে মহাখালী, বসুন্ধরা হতে মৌচাক ইত্যাদি জনসমাগমের প্রায় এলাকা। এসকল এলাকায় দিনে-দুপুরে  রাস্তা, যানবাহন থেকে শুরু করে শপিংমল, পার্ক, রিসোর্ট, দোকান সকল স্থানে চলছে বেপরোয়া দলবদ্ধ ছিনতাই। সরজমিনে অনেক ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জানা যায়, ৩ জন থেকে ১২ জনের বা তারও বেশি ছিনতাইকারী দলবদ্ধভাবে এসব ছিনতাই সম্পন্ন করে থাকে।
এছাড়াও আরো জানা যায়, যাকে টার্গেট করা হয় প্রথমে তার কাছ থেকে চুরির চেষ্টা করা হয়, টার্গেটে নগত অর্থ দামী মোবাইল স্বর্ণ অলংকার সহ  ছিনতাই করা হয় মূল্যবান জিনিসপত্র। মানুষ দিতে অপারগতা দেখালে ছিনিয়ে নেওয়া হয়,  অন্যথায় ঠেক দেওয়া হয় দেশী অস্ত্র, আগ্নেয় অস্ত্র।  অবশেষে মেরে ফেলেও ছিনতাই করা হয়। এসব অপরাধ নিত্য ঘটছে প্রশাসনের নাকের ডগায়।

রাজধানীর প্রবেশদ্বার খিলক্ষেত থানা ও অন্যান্য থানার ডিউটি রত পুলিশ কর্মকর্তা, সাধারণ ডায়েরি করতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, গত এক সপ্তাহে ছিনতাই বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারের চেয়েও বেশি। যমুনা শপিংমলের ‘এয়ারটেল, সিম অপারেটর কাস্টমারকেয়ারের এক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে ছিনতাইকৃত মোবাইলের দুই-তিন হাজার সিম উত্তলন করা হয়েছে। বসুন্ধরার ‘গ্রামীণ, সিম অপারেটর কাস্টমারকেয়ারের কর্মকর্তাও জানা গত এক সপ্তাহে তাদের কাছ থেকেও ছিনতাইকৃত মোবাইলের সাতশত-বারশত সিম উত্তলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক সাধারণ মানুষ জানান, এসকল ছিনতাইকারীদের ছত্রছায়া দিয়ে আসছে দলীয় কিছু অসাধু নেতা। যার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সর্বোচ্চ আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন, আর তাই জনসম্মুখেই সংগঠিত হয় ছিনতাই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজধানী তথা দেশবাসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে আশাবাদী অতিসত্বর নাগরিক জীবনের এসকল সমস্যা আরো ভয়াবহ আকার ধারন না করেই অচিরেই ঘুচবে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে।

রোজার ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী থেকে সাধারণ মানুষের বাড়িতে ফেরা, রাজধানীতে চলাচলে কতটা নিরাপত্তা দিতে পারবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা নিও চলছে আশঙ্কা।
ছিনতাই, ডাকাতি, খুন সহ এ সকল ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা অতি জরুরি বলে মনে করছে ভুক্তভোগ ও সাধারণ মানুষ। আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী, বিমানবন্দর, মহাকালী, ফার্মগেট গুলিস্তান, মতিঝিল, কাকরাইল, পল্টন, গাউছিয়া, মিরপুর, শাহাবাগ সায়েদাবাদ, কমলাপুর সহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দ্রুত বাড়াতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও অভিযান। নির্বিঘ্নে ঈদের কেনাকাটা করতে ও জনমনের স্বস্তি ফিরে দিতে এই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা অতি জরুরী। এসব সংঘবদ্ধ চক্রকেও বিশেষ অভিযান চালিয়ে আইনের আওতায় আনা জরুরী।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ