ডেস্ক নিউজ
দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটবন্ধভাবেই নির্বাচন করবে-এমনটা প্রায় নিশ্চিত। জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রায় চূড়ান্ত।
আসন ভাগাভাগি কেমন হবে-তা নিয়ে দর কষাকষি অব্যাহত রয়েছে। তবে এনসিপি নেতারা বলছেন, জোট নিয়ে টানা বৈঠক চলছে। ৫০টির অধিক আসন চাচ্ছে এনসিপি। কিন্তু জামায়াত নেতারা বলছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে-জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। মিত্রদের এমন আসন ছাড়া হবে না-যেখানে ওই মিত্রদের পরাজয় নিশ্চিত। মিত্রদের জয় নিশ্চিত, এমন আসন ছাড়া হবে।
এ প্রসঙ্গে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনা-বৈঠক হচ্ছে। তবে অনেক বোঝাপড়া রয়েছে, আসন থেকে শুরু করে দলীয় বিষয়গুলোও উঠে আসছে। তবে জোট কতটুকু এগোচ্ছে, জোটের ঘোষণা কখন হবে, এ বিষয়টি এখনো বলা যাচ্ছে না।
চূড়ান্ত ঘোষণা এলে আনুষ্ঠানিকভাবে আসবে। আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের আলোচনা-বৈঠক চলমান রয়েছে। জোটের মধ্য দিয়ে নির্বাচন হলে আলাদা মার্কা নিয়েই নির্বাচন করতে হবে।
জামায়াত সূত্র জানায়, দলটি দুই শতাধিক আসনে সরাসরি দলীয় প্রার্থী দেবে। জোট চূড়ান্ত হলে এনসিপি, এবি পার্টি অন্যান্য ইসলামী দলসহ মিত্রদের জন্য ৮০টি আসন ছেড়ে দেবে। বুধবার বিএনপি তার শরিকদের সঙ্গে সমঝোতায় আসন ছেড়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত ও এনসিপির জোট গঠন তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। বুধবার রাতেই জরুরি ভিত্তিতে এ দুই দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে আলোচনা-বৈঠক হয়েছে। বৃহস্পতিবারও এ নিয়ে আলোচনা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ দুই দলের জোট গঠনের ঘোষণাটি প্রকাশ্যে আসবে-এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দু’দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এনসিপিকে ২৭ থেকে ২৮টি আসন ছেড়ে দিতে চায় জামায়াতে ইসলামী।
এদিকে দুটি দলের মধ্যে জোট হচ্ছে-এমন বার্তা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের। বৃহস্পতিবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই এই জোটের ঘোষণা আসতে পারে। তার এমন পোস্টের পর এনসিপি কিংবা জামায়াতে ইসলামীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বেশ কয়েক মাস ধরেই বলে আসছিলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করবে। সেই লক্ষ্যেই প্রথমপর্বে ১২৫টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়। দ্বিতীয়পর্বে বাকি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত করে দলটি। অপর দিকে চলতি বছরের ২৮ অক্টোবর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছিলেন, জাতীয় সংসদের আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বোঝাপড়া করতে পারেন তারা।
তবে নাহিদ ইসলাম এও বলেছিলেন, ‘সমঝোতা বা জোট রাজনৈতিক বা আদর্শগত জায়গা থেকে হতে পারে। জুলাই সনদ ও আমাদের সংস্কারের দাবিগুলোর সঙ্গে যদি কোনো দল ঐক্য বা সংহতি প্রকাশ করে, সে ক্ষেত্রে জোটের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।’
এদিকে দুটি দলের মধ্যে যখন জোট গঠনে আলোচনা চলছে, তখন প্রশ্ন আসছে-জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদে সই করেছে, এনসিপি এখনো সই কেন করেনি। গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে জামায়াত ও এনসিপির মতের মিল দেখা যাচ্ছিল। ফলে তাদের রাজনৈতিক জোট হিসেবেও মনে করা হচ্ছিল। আচমকাই তাল কাটে জুলাই সনদে সই করা না করা নিয়ে। এনসিপি নেতৃত্ব ধরে নিয়েছিলেন, আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা না পেলে জামায়াত জুলাই সনদে সই করবে না। সই না করার ব্যাপারে এনসিপি অনড় থাকলেও জামায়াত সিদ্ধান্ত বদল করে সনদে স্বাক্ষর করে। এর পরে এনসিপি নেতাদের একাংশ ধারাবাহিকভাবে জামায়াতের সমালোচনা করতে থাকে।
আসন নিয়ে দর কষাকষির প্রশ্নে দুই দল অনড় থাকলে, জোটের ঘোষণাটি বিলম্ব হবে। বিলম্বে জোটের ঘোষণা মানেই-নির্বাচনি মাঠে প্রস্তুতির সময় কম পাওয়া। জামায়াতে ইসলামীর তেমন কোনো নবীন নেতা নেই। এনসিপির প্রায় সবাই নবীন। নির্বাচনি মাঠ গঠনে জোটের ঘোষণাও জরুরি। রাজনীতিকদের মতে, ভোটের আগে নেতৃত্বের প্রতি আস্থাও জরুরি। এদিকে জোট গঠনের আলোচনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।







