শ্রীপুরে পারিবারিক বিরোধে হামলা, চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত আজিজুল

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

আল আমিন

স্টাফ রিপোর্টার

দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।

গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাই-বোনের পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে তৃতীয় পক্ষের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত আজিজুল ইসলাম (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের সহায়তায় প্রধান অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ী গ্রামের কাওরাইদ-বরমী আঞ্চলিক সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজুল ইসলাম ওই গ্রামের হানিফার ছেলে। তিনি ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজিজুল ইসলামের বোন শিমলা ও তার ছোট ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে আজিজুল তার ছোট ভাইকে শাসন করেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি সুযোগ নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা রড, সাবলসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। হামলার একপর্যায়ে মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়েন।

স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

আজিজুল ইসলামের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে স্থানীয়রা প্রধান অভিযুক্ত মো. শামীম (৩৪) কে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

নিহতের মেয়ে আজিদা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাবাকে প্রকাশ্যে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। হামলার পর তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ।
দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ।

নিহতের ছোট ভাই তাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের পারিবারিক ঝগড়ার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা হামলা চালিয়েছে। তারা আমার বড় ভাইকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে। পরে আমাদের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। বাধা দিতে গেলে মা, বোন ও অন্যান্য স্বজনরাও মারধরের শিকার হন।”

তিনি জানান, ঘটনার রাতেই পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, হামলার ঘটনায় প্রথমে একটি মারামারির মামলা রুজু করা হয়েছিল। তবে আহত আজিজুল ইসলামের মৃত্যু হওয়ায় মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত চলছে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ