স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিককে হত্যা: পিবিআই তদন্তে রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ১

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ডেস্ক নিউজ
দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২ জুলাই ২০২৫ বিকেল আনুমানিক ৬টায় ভিকটিম জাহাঙ্গীর মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে বাড়ির পশ্চিম দিকে যান। পরদিন ৩ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার বড়খারচর মধ্যপাড়ার একটি নেপিয়ার ঘাসের জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ভিকটিমের মা দিলুয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং-০৫, তারিখ ০৪/০৭/২০২৫, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন। থানা পুলিশ প্রায় দুই মাস তদন্ত করলেও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। পরে পিবিআই, কিশোরগঞ্জ জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে পিবিআই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে কুলিয়ারচর এলাকা থেকে হুসনা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং ২ জুন ২০২৬ তারিখে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর মিয়ার বিয়ের আগে থেকেই হুসনা খাতুনের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর কয়েক বছর যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও প্রায় তিন বছর আগে তাদের মধ্যে পুনরায় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকে তারা নিয়মিত যোগাযোগ ও শারীরিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার দিন রাতে জাহাঙ্গীর মিয়ার ডাকে হুসনা খাতুন বড়খারচর মধ্যপাড়ার একটি নেপিয়ার ঘাসের জমিতে যান। সেখানে তারা একান্তে সময় কাটানোর সময় হুসনার স্বামী শহীদ বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তিনি ছুরি দিয়ে জাহাঙ্গীরের পিঠ ও পেটে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। এতে ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়।

পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে শহীদ রশি দিয়ে মরদেহের হাত-পা বেঁধে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে তদন্তে জানা গেছে।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার পলাতক আসামি শহীদকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ