তাহলে টার্গেট কি জিয়া পরিবার (বিএনপি) ও তারেক রহমান?

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ডেস্ক প্রতিবেদন

দৈনিক বাংলাদেশের ভোর

দেশে যা কিছুই ঘটছে বলা হচ্ছে ‘কেষ্টা বেটাই চোর’। দেশের সব সমস্যার দায় চাপাতে, দোষ ঢাকতে কাকে সেই কেষ্টা বেটাই পরিণত করা হয়েছে তা বলার প্রয়োজন পড়ে না। এই কেষ্টা বেটার বিরুদ্ধে পতিত স্বৈরাচারের প্রোপাগাণ্ডা তো আগে থেকেই চলমান রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো- এবার ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিগুলোও মাঠে নেমেছে। এমনকি বিএনপির ঘরের ভেতরেও ষড়যন্ত্রের গন্ধ দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পুরান ঢাকায় পৈশাচিক কায়দায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংস হত্যা গোটা জাতির বিবেক নাড়িয়ে দিয়েছে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সোহাগকে পিটিয়ে এবং ইট-পাথরের টুকরা দিয়ে আঘাত করে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে শরীরের ওপর উঠে লাফায় খুনিরা। এ যেন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে লগি-বৈঠা দিয়ে জামায়াতকর্মীকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের খুনিদের পৈশাচিক নৃত্যের দৃশ্যের পুরনাবৃত্তি। ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে দলীয়ভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যুবদলের পাঁচজনকে আজীবনের জন্য সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। এরআগেও সারা দেশে বিভিন্ন ঘটনায় হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তারেক রহমানও সবসময় দলীয় শৃঙ্খলা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছেন। তবুও সোহাগ হত্যাকাণ্ডের পর একমাত্র টার্গেট বানানো হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। এই ইস্যুটিকে পুজি করে সামাজিক মাধ্যমেও তার বিরুদ্ধে রীতিমত নোংরা ক্যাম্পেইন চলছে। তার নেতৃত্ব ধ্বংস করাই যেন এর মূল টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ক্যাম্পেইনের টার্গেট কেবল তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ থাকেনি, কোনো কোনো ঘটনায় পুরো জিয়া পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে, চরম মানহানিকর কর্মকাণ্ড ও প্রচারণা চরম ভাবিয়ে তুলেছে দেশপ্রেমিক নেটিজেনদের। ফলে প্রশ্ন উঠেছে- ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপক প্রচারণায় আসলে রাজনৈতিক ফায়দা কারা পাচ্ছেন? এরআগে মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার, চাঁদপুরে ইমাম হত্যাচেষ্টা, লালমনিরহাটে থানা ঘেরাও ইস্যুতে বিএনপিকে কোণঠাসা করার ব্যাপক প্রচেষ্টা দেখা গেছে।

সর্বশেষ ঘটনায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কথিত ইউটিউবার, ভুঁইফোড় কিছু চ্যানেল টানা প্রোপাগাণ্ডা, অপপ্রচার ও অপতথ্য ছড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পেসে তারেক রহমানকে নিয়ে অত্যন্ত নোংরাভাবে টার্গেট করে কুৎসা রটানো হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একটি ক্যাডারভিত্তিক ইসলামী দলের প্রত্যক্ষ মদদে বিএনপিবিরোধী এই প্রচারণা জোরেসোরে চালানো হচ্ছে। পেছনে পতিত স্বৈরাচারদের অবৈধ পয়সা ঢালা হচ্ছে। অন্য একটি ইসলামী দল মওদুদিবাদীদের সাথে হাত মিলিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নোংরা প্রচারণায় নেমেছেন। দলটির প্রধান গতকাল ঢাকার এক বিক্ষোভ সমাবেশে অত্যন্ত নোংরা ও অমার্জিত ভাষায় তারেক রহমানকে গালিগালাজ করেছেন। যা ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। স্বয়ং অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের প্রশংসা করেছেন। তার নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করেছেন। তার সঙ্গে লন্ডনের বৈঠকটি যার প্রমাণ বহন করে। যা বিএনপির বিরোধীদের পছন্দ হয়নি। এর বিপরীতে গিয়ে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে উল্লিখিত ইসলামী দলগুলো অপপ্রচার ও মিথ্যাচারে নামায় হতবাক হয়েছেন নেটাগরিকরা। অনেকে মনে করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি আগামী দিনের সম্ভাব্য রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই নোংরা ক্যাম্পেইনে ভারতও জড়িত রয়েছে। হাসিনার পতনের কারণে আগ্রাসী রাষ্ট্রটির এখনকার একমাত্র টার্গেট তারেক রহমান যেন দেশে ফিরে কখনই দলের হাল ধরতে না পারেন, দেশের নেতৃত্ব দিতে না পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সোহাগ হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট বানানো হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে। বর্তমানে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা উপভোগ করছেন, তিনি দেশের ফিরলে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে। ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ তাকে বরণ করে নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে তিনি যখন দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঠিক তখনই তার পেছনে লাগা হলো। বিএনপির বিরোধীরা যেমন চাচ্ছেন না তিনি দেশে ফেরেন, অন্যদিকে বিএনপির ভেতরে সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠীও চাচ্ছেন না তিনি দেশে এসে শক্তভাবে দলের হাল ধরুন। কারণ এতে তাদের অবৈধ প্রভাববিস্তার ও সুবিধাভোগের পথে অন্তরায় সৃষ্টি হবে। তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইস্পাতকঠিন মনোবল নিয়ে দলের নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয় তাকে। কেবল দেশের জন্য তিনি স্বামী-সন্তান হারিয়েছেন। এমনকি অত্যন্ত নির্দয়ভাবে বাস্তুচ্যুতও করা হয়েছে। হাসিনা অন্যায়ভাবে করেছে জেলবন্দী। চিকিৎসার সুযোগও ঠিকমত দেয়া হয়নি। তবুও দেশ ও দলের কল্যাণ ইস্যুতে কখনও তিনি সমঝোতা করেননি, আপোসহীন থেকেছেন। যার কারণে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি। খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার দিন বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে ছুটে যান কয়েক লাখ মানুষ। ভিড় সামাল দিতে বিকল্প পথে বাসায় ফিরতে হয় তাকে। বর্তমানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বয়সের ভারে নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। কেবল দেশকে একটি সুন্দর-সুশৃঙ্খল অবস্থায় রেখে যেতে তিনি শত নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন। তিনি যখন নিজে হাতে গড়া তারেক রহমানকে দেশের হাল ধরার পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন তখনই শুরু করা হলো এই নোংরামি। অন্যদিকে, গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বিএনপির একশ্রেণীর নেতাকর্মী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধ দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এসব নেতাকর্মীর অপকর্মের দায় বিএনপির উপর এসে পড়ছে। বিএনপির কঠোর অবস্থান থাকা সত্ত্বেও দলের অনেক নেতাকর্মী এখনো সতর্ক হয়নি, শিক্ষা নেয়নি। উল্টো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারই নৃশংস প্রকাশ ঘটেছে মিটফোর্ডের ঘটনার মধ্য দিয়ে। প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপি কেন বেপরোয়া হয়ে ওঠা নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না? পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা একশ্রেণীর নেতাকর্মী তোয়াক্কা করছে না। বিএনপির মধ্যে একটি সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী শক্ত অবস্থান নিয়েছে, যারা তারেক রহমানের নেতৃত্বকে পছন্দ করেন না। এরাই ৫ আগস্টের পর অর্থের বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিদেশে পালাতে সহায়তা করে। গণহত্যাকারী দলটির নেতাকর্মীদের দলের বিভিন্ন পর্যায়ে পুনর্বাসন করে। সারাদেশে অর্থের বিনিময়ে শেল্টার দেয়। তারায় আজকে বিএনপির জন্য বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে। এরআগে কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রথমে এক হিন্দু নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। দু’টি ঘটনায় বিএনপি ও যুবদলের নেতারা জড়িত এমন প্রচারণা চালায় জামায়াত, এনসিপি এবং কিছু ভাড়াটে ইউটিউবার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও দিল্লির তাঁবেদার গণমাধ্যম। তারা যুবদলের স্থানীয় নেতা ধর্ষণ-ট্রিপল মার্ডারে জড়িত এমন প্রচারণা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিযোগিতায় নামে। অভ্যুত্থান চলাকালে তারেক রহমান প্রতিদিন-প্রতি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করেছেন এবং দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আওয়ামী সরকারের চরম ফ্যসিবাদী আচরণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বার বার হোচটের মুখে পড়ছিল, তারেক রহমান তখন তার বিচক্ষণতা ও দক্ষতার সঙ্গে মন্ত্রণা দিয়ে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলকে এই আন্দোলনে রাজপথে সুসংগঠি ও সম্পৃক্ত করেন এবং গণঅভ্যুত্থানে পরিণত করতে পথ দেখান। যদিও তিনি কখনও ক্রেডিট নেওয়া পছন্দ করেন না। তবে শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়লে সমালোচনাকারীদের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। দেশপ্রেমিক নেটিজেনরা বলছেন, ষড়যন্ত্র করে অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অংশীদ্বার বিএনপি ও তারেক রহমানের অবদানকে ছোট বরা যাবে না। দেশের জনগণ কখনই নেতা চিনতে ভুল করেন না, সামনেও করবেন না। এদিকে আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ্ উদ্দিন আহাম্মেদ এক বিবৃতিতে বলেন- চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র করে তারেক রহমানের নেতৃত্ব ধ্বংস করা যাবে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা অবনতির জন্য দায় এরিয়ে উস্কানিদাতারা রেহায় পাবে না। চলমান দেশের অবস্থার জন্য সরকার দায় এরাতে পারবে না। নড়ভরে প্রশান দিয়ে রাস্ট চলেনা। এর দায় বিএনপির উপর চাপানো ও একটি কৌশল গত পায়তারা। নির্বাচন পিছানোর জন্য এবং বিএনপিকে প্রশ্নবৃদ্ব করে আরেক ফ্যাসিস্ট কায়েম করতে চায়।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ