গোপালগঞ্জে এনসিপি’র সমাবেশ ঘিরে দিনব্যাপী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, নিহত ৪ আহত শতাধিক

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদন

দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে দিনব্যাপী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র পরিণত হয়েছে। এ ঘটনাই এখন পর্যন্ত ৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত  হয়েছে বলে যানা যায়।

এনসিপি সমাবেশে হামলা

নিহত ব্যক্তিরা হলেন গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের বাসিন্দা সন্তোষ সাহার ছেলে (১) দীপ্ত সাহা (২৫) কোটালীপাড়ার (২) রমজান কাজী (১৮) ও টুঙ্গীপাড়ার (৩) সোহেল মোল্লা (৪১)  (৪)অজ্ঞাত একজনের নাম জানা যায়নি। আজ বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, বিকেলে তিনজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁরা গুলিবিদ্ধ ছিলেন। হামলার ঘটনার পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন। এ সময় পুলিশ-সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

দৈনিক বাংলাদেশের ভোর

তাদের (এনসিপি) বলা হয়েছিল, সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু তাঁরা সমাবেশস্থলে এসে দেখেন পরিস্থিতি ঠিক নেই। এর আগে বেলা পৌনে ২টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এনসিপির সমাবেশস্থলে হামলা করে। সে সময় মঞ্চের আশপাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে দ্রুত আদালত চত্বরে ঢুকে পড়েন। একই সময়ে মঞ্চে ও মঞ্চের সামনে থাকা এনসিপির নেতা-কর্মীরাও দৌড়ে সরে যান। পরে এনসিপির নেতারা সেখান থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ নিরাপত্তায় বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে সমাবেশ স্থল ত্যাগ করে। যারা হামলা চালান, তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে এনসিপির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেছিলেন। ওই সময় হামলাকারীরা মঞ্চের চেয়ার ভাঙচুর করেন, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। একপর্যায়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। এনসিপির নেতা-কর্মী ও পুলিশ এক হয়ে ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। বেলা ২টা ৫ মিনিটে সমাবেশস্থলে পৌঁছান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে সমাবেশ করে এনসিপি। সমাবেশ শেষে এনসিপির নেতা–কর্মীদের ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটে। ১ জুলাই থেকে দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করছে এনসিপি। এর মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এই কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে পদযাত্রা করছে দলটি। গতকাল মঙ্গলবার দলের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এই কর্মসূচিকে ১৬ জুলাই মার্চ টু গোপালগঞ্জ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এই পদযাত্রাকে ঘিরে আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কের খাটিয়াগড় চরপাড়ায় পুলিশের গাড়িতে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে ওই এলাকা পরিদর্শনে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রাকিবুল হাসান। সেখান থেকে ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কংশুরে ইউএনওর গাড়িতে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর গাড়ির চালক আহত হন। ইউএনও এম রাকিবুল হাসান বলেন, এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে হামলার

গাড়িতে থাকা আহত পুলিশ সদস্য
দৈনিক বাংলাদেশের ভোর

অপ্রীতিকর ঘটনা জানার পর ওই এলাকায় পরিদর্শনে যাই। সেখান থেকে ফেরার পথে কংশুরে পৌঁছালে, একদল লোক আমাদের গাড়িতে হামলা করে। গাড়ির চালক মোহাম্মদ হামিম আহত হয়েছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে বিকালে কারফিউ জারি করা হয়। কারফিউ চলবে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।কারফিউ চলাকালীন গোপালগঞ্জে  আগামীকালের এসএসসি পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ