সালমান শাহ হত্যা মামলা, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদালতের নির্দেশ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ডেস্ক নিউজ

দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সালমান শাহ হত্যা মামলায় সর্বমোট ১১ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সালমান শাহ সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। অন্য ১০ আসামি হলেন প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মেফিয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্টোপলিটন মাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান মামলার এজাহার আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন।
সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর নতুন মোড় নিলো ঘটনাটি। আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যু মামলাটি এবার হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
গত সোমবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলার পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন এবং এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করার আদেশ দেন। এদিন মধ্যরাতে সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কমকুম মামলাটি করেন। আদালত রমনা মডেল থানা পুলিশকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডনসহ মোট ১১ জন। এজাহারে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী ও স্বজনরা জানান, তারা দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে আদালতে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছিলেন। পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে মত দিলেও, তার পরিবার তা মানতে নারাজ ছিলেন।
সালমান শাহের মামা আলমগীর কুমকুম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘সালমান শাহর বাবা একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। উনি অনেক চেষ্টা করেছেন অপমৃত্যুকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করতে। চেষ্টা করতে করতে উনিও দুনিয়া থেকে চলে গেলেন। এখন এতদিন পর এটা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ প্রমাণ হবে এটা হত্যা।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার অকালমৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্যের জট এবার হত্যা মামলার তদন্তের মাধ্যমে খুলবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো দেশবাসী। এই হত্যাযজ্ঞে সর্বপ্রথম যেই নামটি আসে আজিজ মুহাম্মদ ভাই। সামিরার সাথে তার অন্তরঙ্গ মেলামেশায় ঘনিষ্ঠতার প্রতিবাদে সালমান শাহ বাগদন্ডে জড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আজিজ মোহাম্মদ ভাই এর ইশারাই বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সহ আন্ডারওয়ার পরিচালিত হত। আজিজ মোহাম্মদ ভাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন শিষ্য সন্ত্রাসী ও বিত্তবান থাকাই স্বামীরাকে হাতের পুতুল বানিয়ে সালমান শাহকে হত্যা করার পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা দেয়। ঘটনার দিন আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ খলনায়ক ডন  এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে বাদী মামলায় দাবি করে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ