ইরান নিয়ে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, সৌদি আরব পাশে থাকার অঙ্গীকার

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ডেস্ক নিউজ

দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশটির চারদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যেকোনো সময়ে তারা ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল। এর ফলে ইরানি মুদ্রার রেকর্ড পতন হয়েছে। জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি। এমন সময়ে সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি মোহাম্মদ বিন সালমানকে সতর্ক করেছেন। বলেছেন, ইরানে হামলা হলে তাতে কিছুই অর্জিত হবে না। শুধু এ অঞ্চল অস্থিতিশীল হবে। জবাবে মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানকে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম এবং ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উত্তেজনা সৃষ্টির উদ্যোগ সৌদি আরব প্রত্যাখ্যান করে।
বিশাল ‘সুন্দর নৌবহর’ ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প বলেন, ওরা যদি চুক্তি করে, সেটাই ভালো। আগেই করা উচিত ছিল। তাহলে ওদের একটা দেশ থাকত।

এদিকে সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক কমান্ডার দেশটির প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দেন। আইআরজিসির নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপপ্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো আমাদের বন্ধু। কিন্তু যদি তাদের মাটি, আকাশ বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। ফার্স সংবাদ সংস্থা তার বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইল ইরানের ওপর একাধিক হামলা চালায়। এসব হামলায় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং পরমাণু স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রও ১২ দিনের যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। এই যুদ্ধ হয় এমন এক সময়ে যখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

সংঘাতের পর ট্রাম্প আবারও ইরানের কাছে দাবি জানান, তেহরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি ভেঙে ফেলতে হবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে। তবে এখনো আলোচনা পুনরায় শুরু হয়নি। সোমবার এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন এখনো ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওরা শর্তগুলো জানে। তারা শর্ত সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত।

আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ‘ইরান প্রজেক্ট’-এর পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব দাবির কাছে ইরানের নতি স্বীকার করার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। ভায়েজ বলেন, ইরানের নেতৃত্ব মনে করে চাপের মুখে আপস করলে চাপ কমে না, বরং তা আরও বাড়ে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যখন অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে- যদি হামলা চালানো হয়, তারা পাল্টা জবাব দেবে। মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানে হামলার পরিণতি পুরো অঞ্চলকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো ভালোভাবেই জানে এ অঞ্চলে কোনো নিরাপত্তা ভাঙন হলে তা শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নিরাপত্তাহীনতা ছোঁয়াচে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ