জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত আবু-সাঈদের মামলার রায়: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ডেস্ক নিউজ

দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।

২০২৪ সালে কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৬ই জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
আবু সাঈদের হত্যার ঘটনাকে জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ‘টার্নিং পয়েন্ট’ মনে করা হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ  রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬ইং) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এ,এস,আই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন।

এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার আসামি মোট ৩০ জন। এর মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো.আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে।
মামলার রায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
রায়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকেও ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল ও সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফানকে পাঁচ ও তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান পলাশকে পলাশ দেয়া হয়েছে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহসভাপতি ফজলে রাব্বী, সহসভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ এবং ধনঞ্জয় কুমারকে দোষী সাব্যস্তক্রমে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশকে দেয়া হয়েছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদকে দেয়া হয়েছে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।
দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমানকে দেয়া হয়েছে তিন বছর করে এবং এমএলএসএস একেএম আমির হোসেনকে দেয়া হয়েছে তিন বছরের কারাদণ্ড।
রংপুর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
এছাড়া তৎকালীন উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
রায়ে মামলার ২৯ নং আসামি প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজের হাজতবাস কালীন সময়কে কারাবাস ধরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং সাজর মেয়াদ পূর্ণ ধরে তাকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

 

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ