নিজেস্ব প্রতিবেদন
দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।
(বাবার ক্ষমতায় নয়, সন্তানের ক্ষমতা ও দাপটে এলাকায় লুটতরাজের রাজত্ব কায়েম, একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার অভিযোগ)
কুমিল্লার মুরাদনগরে মা-ছেলে-মেয়েকে হত্যার নির্দেশদাতা অভিযোগ করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বাবা বিল্লাল মাস্টারকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়েছে। সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতদের পরিবারের সদস্য রুমা আক্তার এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রুমা আক্তারের বক্তব্য হলো
কুমিল্লার মুরাদনগরে মা-ছেলে-মেয়েকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বাবা বিল্লাল মাস্টার। তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্য রুমা আক্তার সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগী হওয়া সত্ত্বেও ন্যায়বিচার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিচারের পাশাপাশি নিজের পরিবারের নিরাপত্তাও চেয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রুমা আক্তার বলেন, ‘বিচার চাওয়ার তো অধিকারই নেই, উল্টো নিজেদের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। কারণ এই হত্যাকাণ্ডে শুরু থেকে মদদ দিয়েছেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বাবা বিল্লাল মাস্টার। তাঁর প্রভাব এবং সাহসে এমন হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন শিমুল চেয়ারম্যান ও তাঁর দোসরেরা।’
রুমা আক্তার আরও দাবি করেন, প্রথমে আমার মাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরে ছেলে-মেয়ে বিচার চাইতে পারে এমন চিন্তা করে পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুমা আক্তার বলেন, আমার মা একটি বিল্ডিং নির্মাণ করার কারণেই স্থানীয়দের সঙ্গে হিংসা শুরু হয়। শিমুল চেয়ারম্যান চেয়েছিল, আমাদের বিল্ডিং তাঁর মাধ্যমে কন্টাক্ট দিয়ে, তাঁর লোকদের দিয়ে কাজ করাতে। আমার মা তা করেননি। কারণ আমার বাবা-ভাই বিদেশ থেকে অল্প-অল্প টাকা পাঠিয়েছে। আমার মাসহ আমরা তিন বোন দু-একজন মিস্ত্রি রেখে আস্তে আস্তে কাজ করিয়েছি। সেজন্য শিমুল-বিল্লাল কয়েকবার চাঁদা নেওয়ার জন্য আমার মায়ের কাছে লোক পাঠায়। চাঁদা না দেওয়া আমাদের বাড়ির গ্লাস, কারেন্টের লাইন কেটে ফেলা হয়। এ নিয়ে কুমিল্লা ডিবি অফিসে একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়।’
রুমা আক্তার আরও দাবি করেন, ‘হত্যাকাণ্ডের একদিন আগে, মোবাইল চুরির ঘটনার নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। একজনের ঘরে মোবাইল চুরির ঘটনায় আমাদের বাড়ির পাশের দোকানে একটি ছেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযুক্ত ছেলের বাবা কোনোভাবে ছেলে বাঁচাতে না পেরে আমার মায়ের কাছে সাহায্য চায়। তখন আমার মা ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেন— চোর মরে গেলে আমরা আশপাশের সবাই ফেঁসে যাব। হয় তাঁকে ছেড়ে দাও, নাহলে পুলিশে দাও। এ কথা বলার সাথে সাথেই সেখানে থাকা বাচ্চু মেম্বার, শরীফ, আসিফসহ সবাই আমার মাকে উদ্দেশ্য করে বলে, তুই চোরের পক্ষ নিছিস, তুই নিজেও চোর। পরে আমার ভাই ঘটনাস্থল থেকে মাকে উদ্ধার করে। অভিযুক্ত ছেলের বাবা থানায় অভিযোগ করলে বাচ্চু মেম্বারসহ অন্যান্যরা আমার মাকে সন্দেহ করে।
রুমা আক্তার বলেন, এরপর ২ জুলাই রাতে শিমুল চেয়ারম্যান, আনু মেম্বার, মতিনসহ কয়েকজনের উপস্থিতিতে রবিউল ও শরীফের আহ্বানে এক গোপন বৈঠকে আমার মাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখানে বেশ কিছু টাকাও লেনদেন হয়।
পরে রুমা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি হত্যা পরবর্তী হত্যাকারীদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেওয়া, প্রভাব বিস্তার, নির্যাতন, ভয় দেখানোসহ নানা অনিয়মের ঘটনা তুলে ধরেন।
রুমা সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করে বলেন, তার দেওয়া বক্তব্যের বাইরে, যদি তার পরিবারের কারও বক্তব্য কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়! তা হবে উপদেষ্টা আসিফের চাপের ফলে। এই কথা বিবেচনা করার জন্যও সতর্ক করেন রুমা আক্তার।







