বেড়ায় ১৫ লাখ টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জব্দ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

 

আবুজর গিফারী, ​পাবনা প্রতিনিধি:

দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।

পাবনার বেড়া পৌর এলাকার নাজিম বাজারের মোল্লা সুপার মার্কেটে যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৮ টা থেকে প্রায় ১২ টা পর্যন্ত পরিচালিত দীর্ঘ চার ঘণ্টার অভিযান শেষে এসব অবৈধ মৎস্য আহরণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

​অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূরেন মাইশা খান। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোকাররম হোসেন এবং বেড়া মডেল থানা পুলিশ এর একটি চৌকস দল উপস্থিত ছিল।

​অভিযান সূত্রে জানা যায়, নাজিম বাজারের ওই মার্কেটের একটি গোডাউনে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল মজুদ রাখা আছে—এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে গোডাউন মালিকপক্ষের অসহযোগিতার কারণে পুরো অভিযান সম্পন্ন করতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত গোডাউনটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ৩০০টি চায়না দুয়ারী জব্দ করা হয়।

​এ বিষয়ে মার্কেটের ম্যানেজার মকরম জানান, বাজারে মনোহারি, ফিল্টার নেট, সুতা বা মুদি ব্যবসা রয়েছে এমন ব্যবসায়ীরা গোডাউন হিসেবে ব্যবহারের জন্য এই কক্ষগুলো ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে সুতা ব্যবসার আড়ালে সেখানে এসব অবৈধ জাল মজুদ রাখা ছিল—তা তাদের জানা ছিল না। দোকান ভাড়ার লিখিত চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি মার্কেটের মালিক ভালো বলতে পারবেন।
​মার্কেটের মালিকের ছেলে লিটনের দাবি, ভাড়াটিয়াদের সাথে তাঁদের বার্ষিক চুক্তিতে ভাড়া হতো। কাপড়ের সুতা ব্যবসার অজুহাতে আড়ালে যে অবৈধ জালের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছিল, তা তাদের অগোচরেই ছিল।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূরেন মাইশা খান জানান, উদ্ধারকৃত অবৈধ মৎস্য আহরণ সামগ্রী বেড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী ব্যবহার করে মাছ শিকার করা আমাদের জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর মনিটরিং ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ