বিশেষ প্রতিনিধি, শ্রীপুরউপজেলা, গাজীপুর।
দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।
কিশোর গ্যাং এর অভাত আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং সহজলভ্য আগ্নেয়াস্ত্র এখন শ্রীপুরের আতঙ্ক। কিশোর গ্যাংয়ের এমন আতঙ্ক কোনভাবেই যেন কমছে না, দিন দিন অবনতির দিকে চলে যাচ্ছে গাজীপুরে শ্রীপুরের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা।
আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে দিন দুপুরে মারধর করে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া ১৪ বছরের ১স্কুল ছাত্রকে অপহরণ করা এমনই যেন আরেকটি জলজ্যান্ত প্রমাণ।
এবার গাজীপুরের শ্রীপুরে ফেরদৌস (১৪) নামের এক অষ্টম শ্রেণির ১ ছাত্রকে স্কুল ছুটি হওয়ার পর স্কুলের গেটের সামনে থেকে দিনদুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র (পিস্তল) ঠেকিয়ে অপহরণ করে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের হাজী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অপহরণের ১ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণের সিসি ক্যামেরা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায় একদল যুবক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ১ স্কুল ছাত্রকে মারধর করে গায়ের জামাকাপড় টেনে হিজড়ে নিয়ে যাচ্ছে। পিছনে আরেক যুবকের হাতে পিস্তল বারবার এদিক ওদিক তাক করে দেখাচ্ছে। এরই মধ্যে একজন ওই ছেলেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য এগিয়ে এলে তাকেও সরাসরি পিস্তল তাক করে বুকে ধাক্কা দিয়ে পিছনে ঠেলে দিচ্ছে।
ফেরদৌস ওই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। সে হাজী প্রিকেডেট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় একই গ্রামের কাওসার আহমেদ (৩৫), আরাফাত (১৭), মোস্তফা (৩৫), এমদাদুল হক পালাসহ (৪৫) আরও ৫ থেকে ৬ জনের একটি সঙ্গবদ্ধ দল ছিলো অভিযোগ উঠেছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার বলেন, ‘স্কুল ছুটির পর আরাফাত এসে ফেরদৌসকে মারধর করতে থাকে। এ সময় পিস্তল উচিয়ে আসে কাওসার। এদিকে মারতে মারতে ফেরদৌসকে নিয়ে যেতে চায়। এ সময় স্কুলের শিক্ষক- ছাত্ররা এগিয়ে যায়। কাওসার তখন শিক্ষক রুবেলের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। ছাত্ররা এগিয়ে গেলে তাদের দিকেও পিস্তল তাক করে হুমকি দেয়। তখন আমরা সবাই ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। এ সময় হামলাকারীরা ফেরদৌসকে মারপিট করে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
স্হানীয় নাদির মাহমুদ বলেন, কাওসার ও তার সহযোগীরা ফেরদৌসকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আমি ও তার মা কুলসুম আক্তার গিয়ে এক ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করি।
ফেরদৌসের মামা রানা বলেন, একটি মেয়ের সাথে ফেদৌসের সম্পর্ক আছে এমন সন্দেহে পিস্তলের মুখে আমার ভাগিনাকে অপহরণ করে। তাদের বাড়িতে নিয়ে ফেরদৌসকে মারপিট করে। আমরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে কাওসার ও তার সহযোগীরা আমাদের মারধর করতে ক্ষিপ্ত হয়। আমরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেস্কে চিকিৎসা করাই।
এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে ও ১টি মামলার প্রক্রিয়া নিচ্ছে বলে দৈকিক বাংলাদেশের ভোরকে জানিয়েছে।







