গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
দৈনিক বাংলাদেশের ভোর।
আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারা দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ও উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো আধুনিকায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকার আমিনবাজারে ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণেও ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্স’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়। এ কারণে সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারা দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাফারি পার্কের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
গাজীপুর সাফারি পার্কের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, পার্কটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য। এ বিষয়ে ঢাকায় একটি সভা আয়োজন করে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সমস্যাগুলো শোনা হবে এবং সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লেমুরটি অবৈধভাবে আনা হয়েছিল এবং পরে সেটি সাফারি পার্ক থেকে চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আম্বানির চিড়িয়াখানার দুটি লেমুর এখান থেকে গেছে—এমন দাবি করা যাবে না। তবে সাফারি পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরির ঘটনা ঘটেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে যারা দায়ী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বনের জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতি নিয়ে আলোচনা
বনের জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ বসবাস করেন এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন। এ অবস্থায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বনের জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান আগে থেকেই রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বনের জমি দখলের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। তবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা অন্যান্য জমির বিষয়েও আইনগত সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা রয়েছে।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের জমি নিয়ে বিদ্যমান সমস্যার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতরে সাধারণ মানুষের মালিকানাধীন ৪৬৫ একর জমি রয়েছে। বনের ভেতরে এসব জমি থাকায় মালিকেরা সেখানে যেতে পারছেন না, আবার জমি ব্যবহার করেও স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না। অন্যদিকে, ওই এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠলেও সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে আইন বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে চলতি মাসের মধ্যে বৈঠক করা হবে। জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের উপায় বের করাই হবে এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক পরিদর্শন
এর আগে দুপুরে পরিবেশমন্ত্রী গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শনে যান।
এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরু-আল-মামুন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম. ইকবাল হোছাইন চৌধুরী, সহকারী বন সংরক্ষক মো. সামসুল আরেফিন, গাজীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুবক্কর সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব মো. বিল্লাল হোসেন বেপারী এবং সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







