আইটি ব্যবসা থেকে রাজনীতি, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে জাপানে গেলেন আমজনতার তারেক

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশের ভোর

রাজনীতির পথচলা কখনোই একরৈখিক নয়। এখানে যেমন রয়েছে স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা, তেমনি রয়েছে অনিশ্চয়তা, প্রতিকূলতা এবং জয়-পরাজয়ের বাস্তবতা। কেউ রাজনীতিতে আসেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে, আবার কেউ নিজের পেশাগত জীবন থেকে নতুন স্বপ্ন নিয়ে পা রাখেন রাজনীতির মাঠে। আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানের জীবন ও রাজনৈতিক পথচলায় উঠে এসেছে তেমনই এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার গল্প। আইটি ব্যবসার জগৎ থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে জাপান যাত্রা—সব মিলিয়ে তাঁর জীবনে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি অধ্যায়।

 

রাজনীতির বাইরেও মো. তারেক রহমানের জীবন জড়িয়ে আছে ব্যবসা, জীবিকা এবং নানা প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে। পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি আইটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের প্রত্যাশা ছিল তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেবেন। সেই প্রত্যাশা পূরণে বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত চাকরি পাওয়া হয়নি তাঁর।

জীবনের এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বিকল্প জীবিকার পথ খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করে। একসময় তিনি আমের ব্যবসা শুরু করেন। পরে আমের পাশাপাশি মধুর ব্যবসাও তাঁর আয়ের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে। গ্রীষ্মে আম এবং শীতকালে মধু বিক্রির মাধ্যমে তিনি নিজের সংসার চালানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের খরচও বহন করেন বলে জানিয়েছেন। অনলাইনভিত্তিক বিক্রিও তাঁর ব্যবসার একটি অংশ।

ব্যবসা করতে গিয়ে নানা বাধার মুখে পড়ার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার পলাশী ও আগারগাঁও এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার সময় তাঁর দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত জীবনে নতুনভাবে পথ খুঁজে নেওয়ার বাস্তবতা তুলে ধরে।

ব্যক্তিগত জীবনের এই সংগ্রামের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় হয়েছেন তারেক রহমান। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কথা তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী সময়ে আমজনতা দলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা আরও দৃশ্যমান হয়।

 

আইটি ব্যবসা থেকে রাজনীতির পথে

রাজনীতিতে আসার আগে তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং আমজনতা দলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত জীবনের পরিচিত পরিসর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে সংগঠন গড়ে তোলা, মানুষের কাছে দলের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়া এবং রাজনৈতিক পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই আমজনতা দলের কার্যক্রমে যুক্ত থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি।

দলের নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে অনশন

আমজনতা দলের নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে অনশনে বসেছিলেন দলটির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। দলের নিবন্ধন না পাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর এই কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করে। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার চেষ্টা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা—এই দুই বিষয়কে ঘিরেই সামনে আসে তাঁর অবস্থান।

একটি রাজনৈতিক দলের জন্য নিবন্ধন নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সেই বাস্তবতায় আমজনতা দলের নিবন্ধন নিয়ে তারেক রহমানের অবস্থান তাঁর রাজনৈতিক পথচলার উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে রয়েছে।

ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচনী লড়াই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসন থেকে ‘প্রজাপতি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনে তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৪৪ ভোট।

নির্বাচনের ফলাফল তাঁর প্রত্যাশা পূরণ না করলেও এ অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক পথচলার অংশ হয়ে থাকবে। একটি নতুন দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং ভোটারদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তিনি সরাসরি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে জাপানের পথে

২৫ অক্টোবর রাতে চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানও।

জাপানের পথে যাত্রার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। জীবনে প্রথমবার দেশের বাইরে যাওয়ার কথা জানিয়ে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাত্রাকে নিজের জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

একজন রাজনৈতিক কর্মীর জীবনে প্রথম বিদেশযাত্রা ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকতে পারে। আর সেই যাত্রা যখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরের অংশ হয়, তখন অভিজ্ঞতাটিতে যুক্ত হয় বাড়তি তাৎপর্য। ব্যবসা থেকে রাজনীতি, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং এবার আন্তর্জাতিক সফরের সঙ্গী হওয়া—সব মিলিয়ে তাঁর জীবনের ধারাবাহিকতায় যুক্ত হয়েছে নতুন একটি ঘটনা।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সফর

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা।

এই সফরে আমজনতা দলের সদস্যসচিব তারেক রহমানের উপস্থিতি তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য। তবে সফরসঙ্গী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করা এক বিষয় নয়। সফরে তাঁর নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব বা ভূমিকার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায় এ নিয়ে অতিরিক্ত কোনো দাবি করার সুযোগ নেই।

সামনে কোন পথে এগোবেন আমজনতার তারেক?

রাজনীতিতে পরিচিতি তৈরি করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়া এবং মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানের পথচলায় ব্যবসা, দলীয় কার্যক্রম, নিবন্ধনের দাবিতে আন্দোলন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে প্রথম বিদেশযাত্রা—বিভিন্ন অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে।

তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে পরবর্তী কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে। জাপান সফর তাঁর জীবনের স্মরণীয় একটি অধ্যায় হলেও রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় সামনে রয়েছে আরও নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা।

আইটি ব্যবসার জগৎ থেকে রাজনীতির মাঠে প্রবেশ করা আমজনতা দলের তারেক রহমানের পথচলার গল্প এখনো চলমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে প্রথমবার বিদেশযাত্রা সেই গল্পে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে। ভবিষ্যতে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি কীভাবে এই পথচলাকে এগিয়ে নেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ